চারে খেলবেন তামিম?

চারে খেলবেন তামিম: তামিম ইকবাল, দ্যা ড্যাশিং ওপেনার। বাংলাদেশের হয়ে বিভিন্ন সময়ে ওপেনিংয়ে ব্যাট করে তামিম বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন বেশ কিছু ঐতিহাসিক জয়। নিঃসন্দেহে তামিম ইকবালকে বলা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ওপেনার।

এখন পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে তামিমের সব অবিস্মরণীয় কীর্তি এসেছে এই ওপেনিং পজিশনে ব্যাট করেই। তবুও, তামিমকে ওপেনিংয়ের জায়গায় চারে ব্যাট করাতে চান বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স।

চারে খেলবেন তামিম?
তামিম ইকবাল এবং জেমি সিডন্স

তামিম ইকবাল ২০০৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। সেখান থেকেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সূচনা হয়। বিভাগীয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে সেই বছরই তিনি অনুর্ধ্ব-১৯ দলের আফ্রো-এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে ডাক পান।

[ চারে খেলবেন তামিম? ]

দলে সুযোগ পেয়ে তিনি ১৮, ৪২, ৬০ এবং ৬১ রানে অপরাজিত থেকে দারুণ একটি টুর্নামেন্ট শেষ করেন। সেই একই বছরের শেষদিকে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ দল ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে। ঐ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭৩টি বল মোকাবেলা করে ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১১২ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন, যা তাকে আলোচনায় আনতে বাধ্য করেছে। অনুর্ধ্ব-১৯ দলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পান তামিম ইকবাল।এরপর, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তামিম ইকবালকে।

প্রায় দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৩৭০টি ম্যাচ খেলেছেন তামিম ইকবাল। এর মধ্যে ব্যাটিং করেছেন ৪২৯ ইনিংসে। যেখানে ৪২৮ বারই ইনিংস সূচনা করেছেন তিনি। একটিমাত্র ইনিংসে পাঁচ নম্বরে নামতে হয়েছে তামিমকে, সেটিও প্রতিপক্ষের দারুণ এক কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে।

সেই এক ম্যাচকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক। অর্থাৎ পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে ওপেনিংয়েই খেলেছেন তামিম। তবে তিনি এখন নিচের দিকে নামলেও ভালো খেলতে পারবেন বলে বিশ্বাস বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং জেমি সিডন্সের। তার মতে, বড় খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ারের শেষ দিকে নিচের দিকে খেলে থাকেন।

চারে খেলবেন তামিম?
লর্ডসে সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবাল

শনিবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তামিমকে নিচের দিকে নামানোর বিষয়ে সিডন্স বলেছেন, ‘বেশিরভাগ দেশেই সিনিয়র ক্রিকেটাররা লম্বা সময় ওপেন করলে (একটু নিচে নামার) সুযোগটা পায়। একটু নিচে নামতে পারলে তামিমেরও ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।’

তবে এখনই তামিমকে নিচের দিকে নামিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেখছেন না সিডন্স। এর কারণ তামিমের যথাযথ ব্যাকআপ ওপেনার না থাকা। ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা ‘এ’ দল ও বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্পে কোনো ওপেনার ভালো করলে তখন তামিমকে নিচে নামানো যেতে পারে বলে আশা সিডন্সের।

তার ভাষ্য, ‘আগে আরেকজন ওপেনার খুঁজে বের করতে হবে! ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করেনি বা ‘এ’ দল কিংবা টাইগার্সে- এমন কাউকে স্রেফ ওপরে ঠেলে দিতে পারি না। এটাই চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। তামিমকে চারে নামাতে হলে আরেকজন ভালো ওপেনার লাগবে। আমার মতে, চার নম্বরে সে দুর্দান্ত হবে।’

হঠাৎই তামিম ইকবালের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে তোলপাড় বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স চাচ্ছেন, তামিমকে মিডল অর্ডারে, চার নম্বরে ব্যাটিং করাতে। মূলতঃ ওপেনিংয়ে অন্য কাউকে ফিট করতেই ব্যাটিং কোচের মাথায় এই চিন্তার উদয় ঘটেছে। তবে, জেমি সিডন্সের এই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কী বলছেন তামিম ইকবাল? তিনি কিভাবে দেখছেন বিষয়টা?

চারে খেলবেন তামিম?

বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, দূরতম ভবিষ্যতেও এমন কোনো ভাবনা তার মধ্যে কাজ করছে না। মিডল অর্ডারে ব্যাট করার কোনো ইচ্ছাই তার মধ্যে নেই।

জেমি সিডন্সের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর যারপরনাই অবাক তামিম। আজকের যে তামিম তারকাখ্যাতি পেয়ে এতটা উঠে এসেছেন, তার পেছনে জেমি সিডন্সের অবশ্যই অবদান রয়েছে।

তামিম-সাকিবরা যখন তারকা হয়ে উঠছিলেন, তখনই প্রধান কোচ হিসেবে জেমিকে পেয়েছিলেন তারা। জেমির সমর্থন এবং সহযোগিতায় বিশ্ব তারকায় পরিণত হয়েছেন তারা। বর্তমানে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করা সিডন্সের সঙ্গে এখনও সম্পর্ক অটুট তামিম-সাকিবদের।

সেই জেমিই এখন বলছেন, তামিমকে চারে নামানোর কথা। কিন্তু ব্যাটিং কোচের এমন ইচ্ছার কথা শোনার পর তামিম বলেন, ‘মিডল অর্ডারে ব্যাট করা নিয়ে কখনো ভাবিনি, এখনো ভাবছি না। আমার সেরকম কোনো ইচ্ছাও নেই।’

তামিম বলেন, ‘জীবনে একবারই মিডল অর্ডারে খেলেছিলাম। সেবার পাঁচ নম্বরে নামতে হয়েছিল চোটের কারণে। ৩৯ রান করেছিলাম সম্ভবত।’

জেমি সিডন্সের সঙ্গে এ বিষয়টা নিয়ে আলাপই হয়নি জানিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা হয়নি।’ ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন নিয়ে যদি কিছু বলেও থাকেন, সেটি ড্রেসিংরুমের আড্ডায় হয়তো বলে থাকতে পারে। ‘ড্রেসিংরুমে আমরা অনেক রকম মজা করি। লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ের পর ওপেনারদের নামতে হয়। তখন হয়তো মজা করে কাউকে বলে থাকতে পারি যে, ইস! যদি পরে ব্যাট করতাম, তাহলে রেস্ট পাওয়া যেত। এটা স্রেফ মজা করে বলা, সিরিয়াস কিছু না।’

 

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন