ওয়ানডেতে সবচাইতে বেশী নার্ভাস নাইনটিজ [Most nervous nineties in ODI]

ওয়ানডেতে সবচাইতে বেশী নার্ভাস নাইনটিজ [Most nervous nineties in ODI] :  ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানের জন্য সবচাইতে সম্মানজনক স্কোর সেঞ্চুরি। বলের পর বল, ওভারের পর ওভার মোকাবেলা, রানের পর রান তুলতে তুলতে তবেই আসে একটি সেঞ্চুরি। তবে এর আগে হয়ে যায় স্নায়ুযুদ্ধ৷ যেখানে নিজের সাথে নিজের লড়াই। সাধারণত ৯০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তবেই আসে শতক।বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সফল হলেও মাঝে মাঝে কাটা পড়তে হয় সেখানে, ক্ষেত্রবিশেষে কখনোবা থাকতে হয় অপরাজিত। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। নার্ভাস নাইনটিজে আটকে যাওয়াটা কারো কারো ক্যারিয়ারে একেবারেই ঘটেনি আবার অনেকের ক্যারিয়ারে ঘটেছে একাধিক, কারো কারো ক্ষেত্রে বহুবার৷

দুর্ভাগাদের নার্ভাস নাইনটিজ তালিকা সবার উপরেই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শচীন রমেশ টেন্ডুলকারের। ভারতীয় এই ব্যাটিং জিনিয়াস ৪৬৩ ম্যাচ আর ৪৫২ ইনিংসের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে শতক হাঁকিয়েছেন ৪৯ টি। যেটি সবারই জানা কথা৷ কিন্তু মিস করেছেন কতটি? এই ৪৯ টি শতক পূর্ণ করতে তাকে নাইনটিজের ঘরে এসে থামতে হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮ বার। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে মোট নার্ভাস নাইনটিজ আছে ২৮ টি। যার ১৮ টি ওয়ানডেতে৷ এই ১৮ টি ইনিংসে ৩ অংকে রূপ দিতে পারলে শচীনের সেঞ্চুরি সংখ্যা হতো ৬৭ টি।

নার্ভাস নাইনটিজ
গ্র‍্যান্ট-ফ্লাওয়ার

জিম্বাবুয়ের কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান গ্র‍্যান্ট-ফ্লাওয়ার নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ২১৪ ইনিংসের ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি সংখ্যা মাত্র ৬, সেখানে নার্ভাস নাইনটিজ ৯ বার। ক্যারিয়ারে ৯০ এর অধিক রান করেছেন ১৫ বার। যার মধ্যে মাত্র ৬ বার তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন। বাকী ৯ বারই ব্যর্থ ছিলেন এই ব্যাটসম্যান।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক ওপেনার নাথান অ্যাস্টল, খেলেছেন ফ্লাওয়ার থেকে ২ ম্যাচ আর ৩ ইনিংস বেশী। ১২ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন ২২৩ টি। ২১৭ ইনিংসের ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি আছে ১৬ টি। আর নার্ভাস নাইনটিজে আছে ৯ টি। অর্থাৎ ৯০ এর উপর ইনিংস আছে ২৫ টি।

এরপরের নামটা ১৯৯৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের নায়ক শ্রীলঙ্কা কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান অরবিন্দ ডি সিলভা। দেশের হয়ে খেলেছেন ৩০৮ ম্যাচ, ব্যাট হাতে ইনিংস আছে ২৯৬ টি। ৬৪ টি অর্ধশতকের পাশাপাশি শতক আছে   ১১ টি। কিন্তু সেঞ্চুরির সংখ্যাটা ২০ হতেই পারতো। দীর্ঘ ১৯ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৯ বার থেমেছেন ৯০ এর ঘরে।

ওয়ানডেতে সবচাইতে বেশী নার্ভাস নাইনটিজ [Most nervous nineties in ODI]

 

ওয়ানডেতে সবচাইতে বেশী নার্ভাস নাইনটিজ [Most nervous nineties in ODI]
কেন-উইলিয়ামসন

জ্যাক ক্যালিস, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তেমনি সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদেরও একজন। বেশ লম্বা ক্যারিয়ার তার৷ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে আছে ৩২৮ ম্যাচে। রান আছে সাড়ে এগারো হাজারেরও বেশী। ৮৬ হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি, ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি আছে ১৭ টি। এই সংখ্যাটা আরো বেশী হতে পারতো। কমপক্ষে ২০ অতিক্রম করতে পারতো। দক্ষিণ আফ্রিকা, আফ্রিকা একাদশ আর আইসিসি একাদশ মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ৮ বার অপয়া নব্বই এর ঘরে থেমেছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

কেন-উইলিয়ামসন এর নামটা এই লিস্টে দেখলে যে কারোই অবাক হওয়ারই কথা। ক্যারিয়ারের বয়স মাত্র এক দশক। অথচ এই লিস্টে জায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই। ২০১০ সালে অভিষিক্ত হওয়া কিউই কাপ্তানের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মোট ওয়ানডে ১৫১ টি। ১৪৪ ইনিংসে সেঞ্চুরি ১৩ টি আর হাফ সেঞ্চুরি ৩৯ টি। ১৩ সেঞ্চুরির পাশাপাশি সেঞ্চুরি মিস করেছেন প্রায় অর্ধেক। ওয়ানডে তে নার্ভাস নাইনটিজ আছে ৭ টি।

 

ওয়ানডেতে সবচাইতে বেশী নার্ভাস নাইনটিজ [Most nervous nineties in ODI]

 

ভারতের সাবেক অধিনায়ক এবং সফল ব্যাটসম্যান আজহার উদ্দীনের ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ম্যাচ সংখ্যা ৩৩৪ টি। ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ৩০৮ ইনিংসে রান করেছেন প্রায় দশ হাজার৷ ৫৮ ফিফটি পাশাপাশি আছে ৭ সেঞ্চুরি। তবে অবাক করা ব্যাপার ক্যারিয়ারে নার্ভাস নাইনটিজও সমানে সমান। তালিকার ৭ নাম্বারে থাকা এই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি যেমন ৭ টি, তেমনি নার্ভাস নাইনটিজেও ছিলেন ৭ বার৷

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মার্টিন ক্রো এর ভাগ্যটা আজহারউদ্দীন এর চাইতেও অপয়া। নিউজিল্যান্ড এর এই ব্যাটসম্যান তেরো বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৪০ ইনিংসে অর্ধশত হাঁকিয়েছেন ৩৪ টি, বিপরীতে শতক হাঁকিয়েছেন মাত্র ৪। কিন্তু মিস করেছেন তার চেয়েও বেশী। নার্ভাস নাইনটিজে কাটা পড়েছেন ৬ বার। বড়ই অদ্ভুত এক ভাগ্য আর স্নায়ু নিয়েই জন্মালেন মার্টিন।

ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ান দুটি ওয়ানডে আর দুটি ইনিংস কম খেলেছেন মার্টিন ক্রো থেকে। অর্ধশতক ক্রো থেকে ১ টি কম, অর্থাৎ ৩৩ টি। কিন্তু শতকে এগিয়ে প্রায় চার গুনেরও বেশী। ক্রো এর শতক যেখানে ৪, ধাওয়ানের সেখানে ১৭ টি। আবার নার্ভাস নাইনটিজ সংখ্যাও ক্রো এর সমান ৬ বার।

তার সময়ের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান ছিলেন প্রয়াত ডিন জোন্স। র‍্যাংকিংয়ে ছিলো নাম্বার ওয়ান। আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত অজিদের হয়ে খেলেছেন প্রায় দেড়শতাধিক ইনিংস৷ তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন ৭ বার। আবার নার্ভাস নাইনটিজ এর সংখ্যাও সমানে সমান। নার্ভাস নাইনটিজে থেমেছেন ৬ বার৷

এছাড়া ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ টি করে নার্ভাস নাইনটিজ আছে ভিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রিচি রিচার্ডসন, মাইকেল ক্লার্ক, বীরেন্দর শেওয়াগ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সৌরভ গাঙ্গুলী, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা এবং সনাৎ জয়সুরিয়ার।

আর সমান সংখ্যক ৫ বার করে যারা নার্ভাস নাইনটিজে থেমেছেন শ্রীকান্ত, হাশিম আমলা, রামনারেশ সারওয়ান, হ্যান্সি ক্রোনিয়ে, গ্রায়েম স্মিথ, শিবনারায়ণ চন্দরপল, মারভান আতাপাত্তু, ক্রিস গেইল, মোঃ ইউসুফ, গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল এবং রোহিত শার্মার৷

আর চার বার করে যারা যারা আছেন অ্যালান লাম্ব, গৌতম গাম্ভীর, ম্যাথু হেডেন, অজয় জাদেজা, পল কলিংউড, গ্যারি কারস্টেন, ইজাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, হার্শেল গিবস, সাঈদ আনোয়ার, অ্যালান বোর্ডার, স্টিফেন ফ্লেমিং, ব্রায়ান লারা, রাহুল দ্রাবিড়, ইনজামাম উল হক, মাহেলা জয়াবর্ধানে, সিবান্দা, ইয়ন মরগ্যান, জেপি ডুমিনি, অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউস, অ্যারন ফিঞ্চ এবং মুশফিকুর রহিম এর৷

এছাড়া বাংলাদেশীদের হয়ে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান ৩ বার করে নার্ভাস নাইনটিজে ছিলেন। তবে মজার ব্যাপার হলো তামিমের ৩ বারই ৯৫। দুই ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস আর ইমরুল দুই বার করে নার্ভাস নাইনটিজ এর শিকার হন৷ আর একবার করে আছেন মোঃ আশরাফুল, আফতাব আহমদে, জুনায়েদ সিদ্দিকী, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, শামসুর রহমান শুভ এবং লিটন দাস।

 

 নার্ভাস নাইনটিজ

 

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন