ওয়ানডেতে একশো তে একশো !!!

ওয়ানডেতে একশো তে একশো !!!

দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করা যেমন গর্বের তেমনি দেশের হয়ে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে একশো ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব সব সময়ই গর্বের৷ আর সেই শত তম ম্যাচ কে বিশেষ ভাবে রাঙিয়ে দিতে চাইবে না কিংবা চায়নি এমন কোনো ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বোলার চাইবেন বল হাতে তার কারিশমা দেখাতে আর ব্যাটসম্যান চাইবেন দলকে সম্মানজনক কোনো ইনিংস উপহার দিতে। ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানের জন্য সম্মানসূচক স্কোর হলো সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে একশো
ক্রিস কেয়ার্নস (ওয়ানডেতে একশো তে একশো৷)

ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে এক বা একাধিক সেঞ্চুরি হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু সেঞ্চুরি আছে যেগুলো ব্যক্তিগত অর্জনে খুব বেশী স্পেশাল। এর মাঝে অন্যতম শত তম ম্যাচে সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি ম্যাচে নিজের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জিতলে এর চেয়ে ভালো উপলক্ষ আর কিই বা হতে পারে। প্রায় ৫০ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে, ৪৩৩৩ ম্যাচে গর্ডন প্রিনিজ থেকে শিখর ধাওয়ান, এমন কীর্তি গড়েন মাত্র ৯ জন ব্যাটসম্যান।

১৯৭৫ সালের ১১ ই জুন বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ক্যারিবীয় ওপেনার গর্ডন গ্রিনিজ এর। ১৯৮৮ সালের ১৮ অক্টোবর শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ১০০ টি ওয়ানডে খেলার গৌরব আর্জন করেন। ওয়ানডেতে একশো তম ম্যাচে এসে ব্যাট হাতে ১৫৪ বলে করেন ১০২* রান। প্রবেশ করেন নতুন এক এলিট ক্লাবে৷ গড়েন প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শত তম ওয়ানডেতে একশো রানের রেকর্ড। যদিও ম্যাচ হেরেছিলো দল। ক্যারিয়ারে মোট ১২৮ টি ওয়ানডে খেলেন তিনি।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ১৯৯৯ এর ১৯ ই জানুয়ারী এই তালিকায় দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রবেশ করেন ক্রিস কেয়ার্নস। ১৯৯১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী ইংলিশদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া এই অলরাউন্ডার, ১৯৯৯ সালের ১৯ই জানুয়ারী ভারতের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ খেলেন।পাঁচ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮০ বলে ৭ বাউন্ডারি এবং ৭ ওভার বাউন্ডারিতে করেন ১১৫ রান। সাথে বল হাতে ১ উইকেট। হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোট খেলেছেন ২১৫ ওয়ানডে।

২০০২ সালের ১৭ই এপ্রিল তাই রেকর্ড করেন পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যান মোঃ ইউসুফ। প্রায় দশ হাজার ওয়ানডে রানের মালিক মোঃ ইউসুফের ওয়ানডে অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালের মার্চে, হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের শত তম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে শারজায় ৮ চার ৩ ছয়ে ১৩১ বলে ১২৯ রানের ইনিংস খেলে এই তালিকায় ৩য় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম লেখান।

ইউসুফের রেকর্ডের দুই বছর পরই এই তালিকায় নাম লেখান শ্রীলঙ্কান উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। ২০০০ সালের ১৫ই জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে গলে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হন এই ব্যাটসম্যান। ২০০৪ সালের ১৭ ই ফেব্রুয়ারী কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অজিদের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডেতে খেলেন ১১০ বলে ১০১ রানের ইনিংস, যেখানে বাউন্ডারি ছিলো ১৫ টি। সাঙ্গার শত তম ওয়ানডেতে রেকর্ড এর দিনে হেরেছে দল।

 

ওয়ানডেতে একশো

 

                                       [ওয়ানডেতে একশো তে একশো]

এরপরের নামটা ইউনিভার্স বস খ্যাত ক্রিস গেইলের৷ ১৯৯৯ এর ১১ই সেপ্টেম্বর কানাডার টরেন্টোতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই ওপেনারের। ২০০৪ সালের ৬ই জুলাই ইংল্যান্ডের লর্ডসে ইংলিশদের বিপক্ষে নিজের শত তম ওয়ানডে তে ১৬৫ বলের ১৩২ রানের ম্যাচ জয়ী এক ইনিংস। যেখানটায় ছিলো ১২ বাউন্ডারি আর ১ ওভার বাউন্ডারি। এখন পর্যন্ত গেইল তার ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন ৩০১ টি, যা তার দেশের হয়ে সর্বোচ্চ।

ওয়ানডেতে একশো
মার্কাস ট্রেসকথিক (ওয়ানডেতে একশো তে একশো)

সাঙ্গাকারা এবং ক্রিস গেইলের রেকর্ডের বছরখানেক পার হওয়ার পরেই ২০০৫ সালের ১৬ই জুন ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে দ্যা ওভালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৭৬ বলে ১৬ বাউন্ডারিতে ১০০* রানের এক ইনিংস খেলেন মার্কাস ট্রেসকথিক। তার ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০০ সালের ৮ই জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে শত তম ম্যাচের সেই সেঞ্চুরির পর বেশী দিন মাঠে নামা হয়নি তার। এক বছর পর ২০০৬ সালে নিজের সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামেন৷ ক্যারিয়ারে ম্যাচ সংখ্যা ১২৩ টি।

বছর খানেক পর ২৩ই মে ২০০৬ -এ ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে শততম ওয়ানডে ম্যাচে খেলতে নামেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবেক অধিনায়ক রামনারেশ সারওয়ান। নিজের শততম ওয়ানডেতে দলকে উপহার দেন অপরাজিত ১১৫ রানের এক অসাধারণ ইনিংস।

১১৯ বলে ১০ চার আর ২ ছয়ে এই রান করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে খেলেন ২০০০ সালের ২০ই জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে৷ ক্যারিয়ারে মোট ওয়ানডে ১৮১ টি। দীর্ঘ ১১ বছর এই তালিকায় যুক্ত হয়নি আর কোনো নাম। ২০০৬ সালে সারওয়ানই শেষ। ২০১৭ পর্যন্ত আর কেউই তাদের শত তম ওয়ানডে তে স্পর্শ করতে পারেননি তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার।

২০০৯ সালেরর ১৮ই জানুয়ারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোবার্টে অভিষেক হওয়া অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার নিজের শত তম ওয়ানডে খেলেন ব্যাঙ্গালরুতে ভারতের বিপক্ষে ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে। সে ম্যাচে এই মারকুটে ওপেনার ১২ বাউন্ডারি আর ৪ ওভার বাউন্ডারিতে ১১৯ বলে খেলেন ১২৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। এখন পর্যন্ত ১২৮ টি ওয়ানডে খেলেন এই ওপেনার।

এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি জোহানসবার্গে স্বাগতিক প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তিনি। দল হারলেও এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১০৫ বলে ১০৯ রান। যেখানে ছিলো ১০ বাউন্ডারি আর ২ ওভার বাউন্ডারি। এখন পর্যন্ত ১৪৫ ওয়ানডে খেলা ধাওয়ান এর ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০১০ সালের ১০ই অক্টোবর অজিদের বিপক্ষে বিশাখাপত্তনমে।

 

ওয়ানডেতে একশো

 

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন