ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস

এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস: ব্রেট লি, অস্ট্রেলিয়ার এক কিংবদন্তী পেস ম্যান। নিজের সময়ে ব্যাটারদের ত্রাস ছিলেন এই ব্রেট লি। যেকোনো মুহুর্তেই ব্যাটারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম ছিলেন ব্রেট লি। বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইন আপকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে পারতেন ব্রেট লি। তাইতো ব্রেট ল ছিলেন তার সময়ে ব্যাটারদের জন্য এক ত্রাসের নাম। ক্রিকেট বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দ্রুত গতির বোলার হিসেবে পরিচিত ব্রেট লি।

 

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস

 

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস

 

ব্রেট লির জন্ম ১৯৭৬ সালের ৮ ই নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে।ব্রেট লি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তিনি তিন শতাধিক উইকেট লাভ করেছেন, একদিনের আন্তর্জাতিকেও তিনি তিন শতাধিক উইকেট লাভ করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ৭১৮টি।

অস্ট্রেলিয়া দলে অবস্থানকালীন সময়ে ব্রেট লিকে খুবই দ্রুতগতির পেস ম্যান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ১০১.১ মাইলে বল করেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২য় দ্রুততম বল। বল নিক্ষেপের ক্ষেত্রে তার অবস্থান  পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের পর। অভিষেকের পর প্রথম দুই বছর তার বোলিং গড় ছিল প্রতি ১০০ বলে ২০ রান। কিন্তু এরপর থেকেই তার বোলিং গড় দাঁড়ায় প্রতি ১০০ বলে ৩০ রানের চেয়ে খানিকটা বেশি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্রেট লিই প্রথম যিনি তার দুই ভাইয়ের সাথেই ক্রিকেট খেলেছেন। ব্রেট লি’র ডাক নাম হলো বিংগা এবং এই নামে অস্ট্রেলিয়ায় একটি ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানও রয়েছে।

লি তার দূরন্ত গতির ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত হয়ে আছেন। তিনি ২০০০ সালের দিকে নিয়মিতভাবে ১৫০ কি.মি.  কিংবা তারও অধিক গতিতে বোলিং করতেন। কেবলমাত্র শোয়েব আখতারের ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিবেগই তার বোলিংয়ের চেয়ে অগ্রসরমান ছিল।

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস

তিনি ১৬১.৮ গতিতেও বল নিক্ষেপ করেছিলেন, কিন্তু ম্যাচটি আন্তর্জাতিক না হওয়ায় তা গণনায় আসেনি| ধারাবাহিকভাবে এ দ্রুতগতির বোলিংয়ের ফলে হাড়ে ফাটল ধরে এবং আঘাতের মুখোমুখি হয়।

ফলে তিনি তার বোলিংয়ের ধরন পাল্টিয়ে ফেলেন যা বেশ কার্যকরী ছিল। দলের প্রয়োজনে টেইল এন্ডার ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তার ব্যাটিং গড় ২০ রানেরও অধিক।

অস্ট্রেলিয়ার ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া তিনি জাতীয় দলের হয়ে ২০০৬ এবং ২০০৯ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করেন।

 

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস
টি টোয়েন্টির প্রথম হ্যাট্রিক নেয়ার পর

 

ক্রিকেট জীবনের শুরুতে ব্রেট লি অবৈধ বোলিং ভঙ্গিমার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে দূরীভূত হয়।  ২০০৫-০৬ মৌসুমে মাইক হাসির  সাথে জুটি বেঁধে ৭ম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১২৩ রান করেছিলেন লি। 

২০০৭ সালের ১৬ সেপটেম্বরে  কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সুপার-এইট পর্বের খেলায় বাংলাদেশের  বিপক্ষে তিনি হ্যাট্রিক করেন। সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মোর্তজা এবং অলক কাপালিকে আউট করে তিনি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম হ্যাট্রিক লাভকারী বোলারের মর্যাদা পান ব্রেট লি।

 

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস
২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্রেট লি

 

ব্রেট লি, গ্লেন ম্যাগ্রা এবং শেন ওয়ার্নের সাথে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলিং-ত্রয়ী জুটি গড়ে তুলেছিলেন| এছাড়া, ২০০৩ সালের এয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি কেনিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন লি।  বা আইপিএলের ৫ম মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল। ব্রেট লি নিউ সাউথ ওয়েলস ব্লুজের  হয়ে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয় করেন। সে টুর্নামেন্টে তিনি ফাইনাল ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হন।

২০০৮ সাল থেকেই শারীরিক অক্ষমতাজনিত কারণে ব্রেট লি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে তিনি তার বন্ধু এবং ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের পরামর্শ মোতাবেক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

 

ব্রেট লিঃ এক সময়ের ব্যাটারদের ত্রাস
কলকাতার জার্সিতে ব্রেট লি

 

তিনি বলেন যে, ‘পাঁচদিন ধরে দেড়শ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করা তার পক্ষে বেশ দূরূহ ব্যাপার’।৭৬ টেস্টে তিনি ৩১০ উইকেট লাভ করেছেন তিনি, যা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তার উপরে আছেন শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং ডেনিস লিলি। ১৩ জুলাই, ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তর থেকে অবসর গ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন লি।

ইংল্যান্ড সফরে অস্ট্রেলিয়ার একদিনের আন্তর্জাতিক দলে খেলার সময় হাঁটুর আঘাতপ্রাপ্তিই এর মূল কারণ। তারপরও লি আইপিএল এবং বিগ ব্যাশ লীগ টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলে যান। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশ লীগ শেষে ব্রেট লি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি বিশ্বকাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দলের সদস্য ছিলেন ব্রেট লি।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন