একজন রুট ছিলেন বলে

একজন রুট ছিলেন বলে: জো রুট, বর্তমান সময়ে ইংল্যান্ড দলের সেরা ব্যাটার। নিজ দল কোনো প্রকার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেই ঢাল হিসবে দাঁড়িয়ে পড়েন রুট। নিজের ব্যাটিং বীরত্বের দরুণ ছাড়িয়ে যাচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। রুট সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজেই প্রবেশ করেছেন আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজারি রানের মালিকদের এলিট ক্লাবে।

 

একজন রুট ছিলেন বলে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর রুট

১৯৯০ সালের ৩০শে নভেম্বর জন্ম নেয়া জো রুট একটি সমৃদ্ধ ক্রিকেট পটভূমি থেকে এসেছেন। তার দাদা বেশ কয়েকটি মৌসুমে ইয়র্কশায়ার লিগে রথারহ্যাম সিসি-র অধিনায়কত্ব করেছেন এবং  তার ছোট ভাই বিলি গ্ল্যামারগানের হয়ে  নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। এই প্রতিভাবান ব্যাটার জুলাই  ২০০৭ এ ইয়র্কশায়ারে  দ্বিতীয় দলের হয়ে অভিষিক্ত হন এবং অভিষেকেই তিনি একটি অর্ধশতক হাকান।

[ একজন রুট ছিলেন বলে ]

২০১০ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের  বিপক্ষে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটি সিরিজে  ম্যান অফ দ্য সিরিজু নির্বাচিত হন জো রুট এবং এরপরই ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব ইয়র্কশায়ারের সাথে তিন বছরের পেশাদার চুক্তিতে আবদ্ধ হন রুট।

২০১১ সালের শুরুতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হওয়ার পর, রুট নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এর পরের মৌসুমেই  রুট রোজ বোল-এ হ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে অপরাজিত ২২২ রানের একট ইনিংস খেলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রুটের অভিষেক হয় ২০১২ সালে, ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি টেস্ট সিরিজে। সে সিরিজে ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতে ইংল্যান্ড। সে সিরিজেই জো রুট তার আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন।

একজন রুট ছিলেন বলে
২০১৫ বিশ্বকাপে রুট

তরুণ রুট যখন নাগপুরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন, তখন ১৩৯ রানেই ৫ উইকেট চলে যায় সফরকারি ইংল্যান্ডের। ভারতের সেই কঠিন স্পিন ট্র্যাকে ২৮৯ মিনিট ব্যাটিং করে ৭৩ রান করে রুট, যা অভিষেকে একজন ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে ষষ্ঠ দীর্ঘতম ইনিংস। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রুটকে। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ১০ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেছেন রুট।

তিনি টেস্টে ১০ হাজার ক্লাবে পৌঁছালেন ৩১ বছর ১৫৭ দিনের মাথায়। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ১০ হাজার রান করার নিরিখে তিনি স্পর্শ করলেন। তিনি স্পর্শ করলেন অ্যালেস্টয়ার কুকের নজির। কুকও ৩১ বছর ১৫৭ দিনের মাথায় টেস্টে ১০ হাজার রানের ক্লাবে পৌঁছেছিলেন। আরও একবার দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের পরিত্রাতা হয়ে রুট বোঝালেন ৩১ বছরেই কেন তিনি সর্বকালের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।

অভিষেক থেকে ধরলে ১০ হাজার রানের ক্লাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রুটই দ্রুততম। অভিষেকের পর ৯ বছর ১৭১ দিনের মাথায় তিনি টেস্টে ১০ হাজার রান পূর্ণ করলেন ২১৮তম ইনিংসে। কুক নিয়েছিলেন ২২৯ ইনিংস, তাঁর অভিষেক থেকে লেগেছিল ১০ বছর ৮৭ দিন। রাহুল দ্রাবিড় অভিষেকের ১১ বছর ২৮০ দিনের মাথায় টেস্টে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেন ২০৬তম ইনিংসে। কুমার সঙ্গকারার লেগেছিল ১৯৫টি ইনিংস ও ১২ বছর ১৫৯ দিন। রিকি পন্টিংয়ের লেগেছিল ১৯৬ ইনিংস, তিনি টেস্ট অভিষেকের পর ১২ বছর ১৭৪ দিনের মাথায় ১০ হাজার রান করেন।

একজন রুট ছিলেন বলে
২০১৯ বিশ্বকাপে রুট

জো রুট খেলেছেন ১১৮টি টেস্ট। ২১৮টি ইনিংসে তিনি ১৬ বার অপরাজিত থেকে ১০০১৫ রান করেছেন। সর্বাধিক স্কোর ২৫৪। গড় ৪৯.৫৭, স্ট্রাইক রেট ৫৪.৭৮। ২৬টি শতরান ও ৫৩টি অর্ধশতরান করেছেন। ২০১৩ সালে দুটি, ২০১৪ থেকে ২০১৬ অবধি তিনটি করে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ অবধি দুটি করে, ২০২১ সালে ৬টি ও চলতি বছর তিনটি শতরান হাঁকালেন রুট। গত বছর অগাস্টে লর্ডসে ভারতের বিরুদ্ধে করেছিলেন অপরাজিত ১৮০। তার মধ্যে আর কেউ লর্ডসে শতরান পাননি। ফের শতরান এলো রুটের ব্যাট থেকেই। এর আগে গত মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ১০৯ ও ১৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রুট।

টেস্টে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় রুট এখন ১৪ নম্বরে। টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সচিন তেন্ডুলকর (২০০ টেস্টে ১৫,৯২১)। এরপর যথাক্রমে রয়েছেন রিকি পন্টিং (১৩৩৭৮), জ্যাক কালিস (১৩২৮৯), রাহুল দ্রাবিড় (১৩২৮৮), অ্যালাস্টেয়ার কুক (১২৪৭২), কুমার সঙ্গকারা (১২৪০০), ব্রায়ান লারা (১১৯৫৩), শিবনারায়ণ চন্দ্রপল (১১৮৬৭), মাহেলা জয়বর্ধনে (১১৮১৪), অ্যালান বর্ডার (১১১৭৪), স্টিভ ওয়া (১০৯২৭), সুনীল গাভাসকর (১০১২২) ও ইউনিস খান (১০০৯৯)।

মন্তব্য করুন