আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঘটন-ঘটন-পটীয়সী ক্রিকেট !!!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঘটন-ঘটন-পটীয়সী ক্রিকেট : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বয়স দেড়শ ছুঁইছুঁই করলেও ক্রিকেটে চলছে চারশ বছরের সময় ধরে। ক্রিকেটে ঘটে যায় নানান ঘটনা, কিছু থেকে যায় স্মৃতি। কিছু কখনো ভোলে না এই খেলার ভক্তরা। প্রায় দেড়শ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু কাকতালীয় ঘটনা এক করা যাক এই অঘটন-ঘটন-পটীয়সী ক্রিকেট  আয়োজনে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
শচীন-কাম্বলির ঐতিহাসিক ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপ

প্রথমেই শচীন-টেন্ডুলকার দিয়ে শুরু করা যাক। ১৯৮৯ সালের ১৫ই নভেম্বর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান আর ভেন্যু পাকিস্তানের করাচী। ২৪ বছর পরের ১৫ নভেম্বর শচীন-টেন্ডুলকার। নেমেছিলেন শেষবার ব্যাটিং করতে, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভেন্যু মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম।

স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান টেস্টে ডাক মেরেছেন দশটি, তিনি টেস্ট খেলেছেনও দশটি ভেন্যুতে।

উইলফ্রেড রোডস, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ৪০ হাজার ছুঁই ছুঁই রান, সঙ্গে বল হাতে ৪ হাজারের অধিক উইকেট, ফিল্ডিংয়ে ৭০০ এর বেশি ক্যাচ। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন হাজারের অধিক প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ। ডব্লিউ জি গ্রেস সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট খেলার রেকর্ড গড়ে বিদায় নেন যে ম্যাচে সে ম্যাচেই অভিষেক তার। এর ৩১ বছর পরে তিনিই ভাঙ্গেন ডব্লিউ জি গ্রেসের বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলার রেকর্ড।

[ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঘটন-ঘটন-পটীয়সী ক্রিকেট !!! ]

ব্যাট হাতে ভারতীয় ক্রিকেটের পথ প্রদর্শক ছিলেন সুনীল গাভাস্কার। তিনি নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন ১৯৮৭ সালের ৫ই নভেম্বর। তার ঠিক একবছর পরে ১৯৮৮ সালের ৫ই নভেম্বর জন্ম ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির। তার পরের বছরের ৫ই নভেম্বর প্রথমবার ভারতীয় দলে ডাক পান ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার শচীন-টেন্ডুলকার। ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের অনেক কথা, গল্প মিললে যাওয়া একই তারিখে।

স্যার ডন ব্র্যাডম্যান
স্যার ডন ব্র্যাডম্যান

শচীন-টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ম্যাচের সংখ্যা ৬৬৪। স্কুল ক্রিকেটে বন্ধু বিনোদ কাম্বলির সাথে তার ঐতিহাসিক সেই পার্টনারশিপও ছিল ৬৬৪ রানের। ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপের দিনের তারিখ ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি; ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি শচীন-টেন্ডুলকার করেছিলেন ২০১০ সালের ২৪ইফেব্রুয়ারিতে।

২০১৫ সালের ২৪ই ফেব্রুয়ারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন ক্রিস গেইল। ২০১৩ সালের এই দিনে প্রথম ভারতীয় উইকেট রক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আবার ২০২০ সালের ২৪ই ফেব্রুয়ারী প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩ টি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন মুশফিকুর রহিম।  দারূণ সব মিল!

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৪ হাজার রান আর ২৮০০ এর অধিক উইকেট নেওয়া ক্রিকেটের ফাদার বলে খ্যাত ডব্লিউ জি গ্রেসের জন্মশতবার্ষিকীতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলেন ক্রিকেটের ডন স্যার ব্র্যাডম্যান। দুই সেরার মিলে যাওয়া।

আবার ডন স্যার ব্র্যাডম্যান যেদিন নিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামেন তার ৪২ বছর পরে একই দিনে ১৭ বছর বয়সী শচীন টেন্ডুলকার করেন তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতক। এখানেও ক্রিকেট ইতিহাসের দুই সেরার মিলে যাওয়া। কাকতালীয় ঘটনা তো অবশ্যই। তবুও ক্রিকেটের একাল সেকাল এক বিন্দুতে মিলে যাওয়া বিধাতার কোন খেলাও নিশ্চয়!

ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালেক স্টুয়ার্টের জন্ম ৮/৪/৬৩; তার টেস্ট রান হচ্ছে ৮৪৬৩। দারূণ মিল না?

ভারত ১৯৮৬ সালে প্রথম বার ইংল্যান্ডকে লর্ডসে হারায়। এরপরে ২৮ বছর পরে দ্বিতীয়বার হারায়। দুই লর্ডস টেস্টের মধ্যে দারুণ কিছু মিল রয়েছে। দুটো ম্যাচেই জয়ী অধিনায়ক ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী। একটায় কাপিল দেব, আরেকটা মহেন্দ্র সিং ধোনি। দুটো ম্যাচে ‘শার্মা’ পাঁচের অধিক উইকেট নেয়; একটায় চেতন শার্মা, আরেকটায় ইশান্ত শার্মা।

ডব্লিউ জি গ্রেস
ডব্লিউ জি গ্রেস

ম্যাচে ‘বিনি’ প্রথম ইনিংসে ৯ রান করেন; একটায় রজার বিনি, অন্যটায় স্টুয়ার্ট বিনি, এরা দুজনই আবার বাবা ছেলে। দুটো ম্যাচেই মুম্বাইয়ের একজন ব্যাটসম্যান শতক পায়। দুটো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপের তিন বছর পর। এছাড়া ১৯৮৬ আর ২০১৪ দুটো বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি আর আর্জেন্টিনা।

অদ্ভুতুড়ে আরো দুটো ম্যাচ মিলে গিয়েছিল আরেকবার! সেখানেও ভারতের নাম। ১৯৮৬ সালে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ আর ২০১৪ এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানের ম্যাচে অনেককিছু মিলে গিয়েছিল হুবহু।

দুটো ম্যাচ আয়োজিত হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, উভয় ম্যাচে পাকিস্তান টস জিতে ফিল্ডিং নেয়, ভারত উভয় ম্যাচে ২৪৫ রান করে, ভারতীয় একজন ওপেনার দুটো ম্যাচেই দুটো ছয় করে মারে। উভয় ম্যাচে তিনজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান অর্ধশতক করে, উভয় ইনিংসে দুজন পাকিস্তানি রান আউট হয়।

শেষদিকে এসে উভয় ম্যাচে পাকিস্তানের দশ নাম্বার ব্যাটসম্যান প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হয়। উভয় ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়া ভারতীয় বোলার শেষ ওভার করে এবং তাকে ছয় হাঁকিয়ে  ম্যাচ জিতে পাকিস্তান। দুটো ম্যাচেই পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় এক উইকেটে।

সবচেয়ে দারূণ মিল ছিল, ২০১১ সালের ১১তম মাসের ১১তম দিনের (১১/১১/১১) বেলা ১১টা ১১ মিনিটে চলাকালীন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১১ রান।

শেষটা বাংলাদেশী অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দিয়ে করা যাক। ১৩ বছরের অধিক সময় ধরে ৭৫ নম্বর জার্সি পড়ে খেলছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ‘৭৫’ সংখ্যাটাকে নিজের সমার্থক শব্দ বানিয়ে ফেলা সাকিব আল হাসান নিজের ৭৫ তম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্ধশতক করার ম্যাচে খেলেছিলেন ৭৫ রানের ইনিংস। প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, সাকিব ম্যাচটি খেলেছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

ক্রিকেটে এমনও হাজারও মিল রয়েছে। সব কী আর জানা যায়, সব কী আর পাওয়া যায়?

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঘটন-ঘটন-পটীয়সী ক্রিকেট !!!
সাকিব আল হাসান

 

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন